কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ
সিলেটের কানাইঘাট দনা সীমান্তের অপারে ভারতে গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় আব্দুর রহমান নামের এক বাংলাদেশী যুবকের লাশ পড়ে থাকা খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফের গুলিতে আব্দুর রহমান নিহত হয়েছেন। নিহত যুবক উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়চাতল গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।
গতকাল শনিবার সকালের দিকে পরিবারের লোকজন জানতে পারেন আব্দুর রহমানের গুলিবৃদ্ধ লাশ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ১৩৩৯নং পিলারের অপারে পড়ে রয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয় লোকজন স্থানীয় বিজিবিকে জানান। এতে বিজিবি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত আব্দুর রহমানের লাশ ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, ঘটনাটি জানার পর আব্দুর রহমানের লাশ ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে তিনি বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড বিজিবির কর্মকর্তা ও কানাইঘাট থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন।
এদিকে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল জানিয়েছেন, উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শনিবার রাতের মধ্যে আব্দুর রহমানের লাশ ফিরিয়ে আনতে সব ধরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। দনা সীমান্তে বিজিবির সাথে থানা পুলিশও রয়েছে। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত আব্দুর রহমানের লাশ হস্তান্তর হয়নি।
অপরদিকে স্থানীয় অনেকেই জানিয়েছেন, গত শুক্রবার বিকেলে দনা সীমান্তের ১৩৩৯নং পিলারের পাশ দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেন আব্দুর রহমান সহ মোট ৬/৭ জনের একটি দল। তারা মূলত চোরাইপথে ভারত থেকে মহিষ আনতে ভারতে প্রবেশ করেন।
সন্ধ্যারদিকে কয়েকটি ভারতীয় মহিষ নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে বিএসএফ তাদের উপর গুলি করে। আব্দুর রহমানের সাথে থাকা লোকজন বিএসএফ’র তাড়া’য় বাংলাদেশে আহত অবস্থায় ফিরে আসলেও আব্দুর রহমান আসতে পারেনি। শনিবার সকালে গলায় গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় ভারতের অভ্যান্তরে তার লাশ পড়ে থাকতে তারা দেখেন।