কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ
কানাইঘাটের দিঘীরপার পূর্ব ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে ধান ক্ষেতে কীটনাশকের কারণে হাসঁ মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার বিকেল ২টার দিকে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের উপর্যপুরি ধারালো ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত সাইদুর রহমান (৩৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
গতকাল শনিবার ভোর ৫টায় সিলেট সিওমেক হাসপাতালের মারা যান সাইদুর রহমান। আশংঙ্কা জনক অবস্থায় নিহতের ভাই ফরিদ উদ্দীন (২৮) সিওমেকের আইসিউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে তাদের স্বজনরা জানান। অপর ভাই আব্দুর রহমান (২৯) আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন একই হাসপাতালে রয়েছেন। কানাইঘাট থানা পুলিশ এঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে সড়কের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নিহত সাইদুর রহমানের আপন চাচা রকিব আলী(৬৫) ও তার পুত্র হত্যাকান্ডের মূল ঘাতক ইমরান আহমদ(২৫) কে সিলেট শহর থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শাহপুর গ্রামে মৃত কুতুব আলীর পুত্র ফরিদ আহমেদের ১০ টি হাঁস তার চাচাতো ভাই ইমরান আহমেদের ধান ক্ষেতের জমিতে গত মঙ্গলবার যায় ।
ধান ক্ষেতের জমিতে কীটনাশক ছিটানোর কারণে ৭টি হাস মারা যায়। এঘটনায় ফরিদ আহমদ এলাকায় বিচারপ্রার্থী হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় গ্রামের মসজিদে জুম্মার নামাজের পর বাড়ী ফেরার পথে চাচা রকিব আলী আপন ভাতিজা ফরিদ উদ্দীনকে শাসাতে থাকেন।
একপর্যায়ে রকিব আলীর পুত্র ইমরান আহমদ ও তার মা লেচু বেগম (৫০) তাদের বাড়ী থেকে দারালো অস্ত্র ও দেশীয় রুইল লাঠি নিয়ে ফরিদ উদ্দীনের উপর হামলা চালায়।
এসময় মারামারী থামাতে গিয়ে চাচাতো ভাই ইমরানের উপর্যপুরি ধারালো ছুরির আঘাতে গুরুত্বর আহত হন ফরিদ উদ্দীন সহ তার বড় ভাই সাইদুর রহমান ও আব্দুর রহমান। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটার আঘাতে পাশের ধান ক্ষেতে লুটিয়ে পড়েন তিন ভাই। আহতদের আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সিলেট সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে মারা যান সাইদুর রহমান। গতকাল শনিবার দুপুরে নিহতের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় বৃদ্ধ মা, অবুঝ সন্তান, ও স্বজনদের আর্তনাদ।
নিহত সাইদুরের বৃদ্ধ মা বলেন, তার নিষ্পাপ সন্তানকে হত্যা করেছে রকিব আলী, তার স্ত্রী লেচু বেগম ও পুত্র ইমরান। হাসঁ মারার বিচার দিলে তারা মানুষ মারবে বলে হুমকী দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে।
এসময় উপস্থিত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার সাজ উদ্দীন সাজু, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইদুর রহমান মাছুম সহ এলাকার লোকজন হত্যাকারীদের সর্বচ্চ শাস্তির দাবী জানান। সাজ উদ্দীন সাজু বলেন, নিহত সাইদুর রহমান যুবদল কর্মী। বিভিন্ন সময় দলীয়কর্মকান্ডের কারনে তিনি নির্যাতিত হন। তার নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের পরিবারের পাশে সব সময় বিএনপি থাকবে বলে তারা জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল জানান, হাসঁ মারা যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের হামলায় সাইদুর রহমান আহত হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
পুলিশ এ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন এলাকায় সাড়াঁশি অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের মূল ঘাতক ইমরান আহমদ ও তার পিতা রকিব আলীকে গ্রেফতার করে।