ঝলক দত্ত, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ
শ্রীমঙ্গলে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসন্তী পূজা। প্রতি বছর চৈত্র মাসে আয়োজিত এই পূজা শ্রীমঙ্গল জুড়ে এনে দেয় এক অনন্য ধর্মীয় আবহ ও আনন্দময় পরিবেশ।
এই উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে চলছে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এবছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে মোট ৪৫টির অধিক পূজা মণ্ডপে বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পূজা মণ্ডপগুলো হলো—শ্রীমঙ্গলেশ্বরী কালী বাড়ি, শ্রীমঙ্গল পৌর শ্মশান ঘাট, নিম্মাই শিববাড়ি, রূপসপুর আবাসিক এলাকার তিনটি পূজা মণ্ডপ, দেববাড়ি এবং সন্ধানী আবাসিক এলাকা।
শুক্রবার থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে সপ্তমী বিহীত পূজার মধ্য দিয়ে। সকাল থেকেই পূজা মণ্ডপগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে উলুধ্বনি, ঢাক-ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনিতে। পুরোহিতরা মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানান, আর ভক্তরা ভরে ওঠেন ভক্তিরসে।
শনিবার অনুষ্ঠিত হয় মহাঅষ্টমী পূজা, রবিবার সকালে নবমী পূজা এবং সোমবার সকালে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই বাসন্তী পূজার পরিসমাপ্তি ঘটবে।
বাসন্তী পূজাকে ঘিরে সনাতনী সমাজের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভক্তরা মন্দিরে উপস্থিত হয়ে দেবীর চরণে প্রণাম নিবেদন ও পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের ইহকাল, পরকাল এবং পারিবারিক সুখ-শান্তির প্রার্থনা করেন।
পুরাণ মতে, সুরত রাজা তার হারানো রাজ্য ফিরে পেতে বসন্তকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। সেই বিশ্বাস থেকেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে ও কল্যাণের কামনায় প্রতি বছর এই সময় বাসন্তী পূজার আয়োজন করে আসছেন।