পিন্টু দেবনাথ, মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন স্পটগুলোতে রীতিমতো ঢল নেমেছে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকের। ঈদের টানা ছুটিতে অনেকেই মৌলভীবাজার জেলাকে বেচে নিয়েছে। কারন এখানে প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি বিরাজমান।
সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছে সবুজ বন, উঁচুনিচু পাহার-টিলা আর চাবাগান ঘেরা কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও ন্যাশনাল টি কোম্পানীর মালিকানাধীন পদ্ম আর শাপলা সমৃদ্ধ মনোরম প্রকৃতির মাধবপুর লেকে। এছাড়াও ব্যাপক সংখ্যক পর্যটক আগমন ঘটে শ্রীমঙ্গলের বধ্যভুমি-৭১ ও সারি সারি চাবাগান আর সড়কের পাশে অবস্থিত সাদা সোনা খ্যাত অসংখ্য রাবার বাগান সহ বিটিআরআই এলাকার পর্যটন স্পটগুলোতে। এসব স্পটে ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট সহ সারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঈদ ভ্রমণে ছুটি কাটাতে পর্যটকরা এসেছেন। ঘুরতে আসা পর্যটকরা ঈদের আগেই কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের পাঁচতারকা মানের হোটেল, রিসোর্ট ও গেষ্ট হাউজে রুম বুকিং সম্পন্ন করেন। যার কারণে পর্যটন এলাকা গুলোতে অবস্থিত হোটেল-রিসোর্টে খালি নেই কোন রুম। এছাড়াও পর্যটন এলাকাগুলোর প্রতিটি সড়কে দেখা গেছে পর্যটকবাহী যানবাহনের ব্যাপক চাপ। তবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবগুলো পর্যটন স্পটে পর্যটকের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও বৃহত্তম হাইল হাওরে অবস্থিত মিঠা পানির জলাশয় ও হাজারও অথিতি পাখির নিরাপদ ঠিকানা বাইক্কা বিলে নেই কোন পর্যটক। সম্প্রতি সরকারি নির্দেশনায় বিলটিতে পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় সেখানে কোন পর্যটক প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন অভয়াশ্রমের ব্যবস্থাপনার দ্বায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ঈদ ভ্রমনে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরতে জেলার বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বৃহত্তম মিঠাপানির হাওর হাকালুকি, কমলগঞ্জের সীমান্ত এলাকার হামহাম জলপ্রপাত, রাজনগরের কমলা রাণীর দিঘি, শ্রীমঙ্গলের সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, মৌলভীবাজার শহরের মনুনদীর তীরবর্তী দৃষ্টিনন্দন পৌর ওয়াকওয়ে, মনুব্যারেজ সহ জেলার সবগুলো পর্যটন স্পটেই পর্যটকের রেকর্ড সংখ্যক উপস্থিতি দেখা গেছে। মূলত অন্য বছরের তোলনায় এবছর দেশের সামগ্রীক রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল ও নিরাপদ সহ টানা ৯দিন ছুটি থাকায় মৌলভীবাজারের পর্যটন স্পটগুলোতে বেড়েছে পর্যটক সংখ্যা। এতে লাভবান হচ্ছেন পর্যটন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও পর্যটক বাড়ায় সরকারি খাতেও বেড়েছে রাজস্ব আদায়।
শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো: নাজমুল আলম জানান, চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে এবছর পর্যাপ্ত ট্যুরিস্ট এসেছেন। আমরা ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্নয়ে তাদের পর্যাপ্ত দিয়ে যাচ্ছি।