সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,
সুনামগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্য ও অসাধু চক্রের যোগসাজশে পরিচালিত হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খানকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই চিঠি পাঠিয়েছেন। শিশির মনির সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় বিশেষ করে দিরাই-শাল্লায় কিছু অসাধু চক্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের যোগসাজশে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করার চিত্র ফুটে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমন করা। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনই তাদের মূল কাজ। অতীতে সংকীর্ণ স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে জনজীবন বিপন্ন করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে।
অসাধু স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিরীহ মানুষের উপর চড়াও হচ্ছে। কল্পিত ঘটনা সৃজন করে ভূঁইফোড় অভিযোগে নিরীহ ও সম্মানিত ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কাউকে কাউকে থানায় ডেকে নিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার নাগরিকের অধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক যেন প্রকৃত অপরাধী কোন ভাবেই ছাড় না পায়। আইনের অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হলে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকাতে অনুরোধ জানাচ্ছি। এই ধরনের অনিয়ম কেবলমাত্র সুনামগঞ্জেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পাশের জেলাগুলোতেও লক্ষণীয়।
সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ থানার ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে মামলা-গ্রেপ্তার বাণিজ্য এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
অতএব, উক্ত বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট অসাধু চক্র ও তাদের সহযোগী কতিপয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আপনার সুচিন্তিত পদক্ষেপ একান্ত কাম্য।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারকে পাঠানো চিঠির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, শাল্লা ও দিরাই থানার ওসি বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান আইনজীবী শিশির মনিরের চিঠি পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।