সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি,
সুনামগঞ্জে গ্রামবাংলার কৃষি ও কৃষকের ঐতিহ্য তুলে ধরতে নির্মাণ করা কৃষকের ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন জেলা পুলিশ সুপার।
রবিবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সকালে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, সরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্তে চোরাচালান, হাটবাজার, খেয়াঘাট, নদীতে চাঁদাবাজির বিষয়ের সঙ্গে কৃষকের ভাস্কর্যটি ভাঙার প্রসঙ্গ ওঠে।
সভায় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘এটি দুঃখজনক। কৃষকের ভাস্কর্য নিয়ে যদি কারও কোনও আপত্তি, মতামত থাকলে আমরা সেখানে আরও সুন্দর কিছু করতে পারতাম।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘শুধু কৃষকের ভাস্কর্য নয়, অন্য কোনও বিষয়েও যদি কারও কোনও মতভিন্নতা থাকে, তাহলে সেটি আমাদের জানাতে পারেন। আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেটি নিয়ে আলোচনা করবো। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। এভাবে ভাঙচুর করলে মানুষের মধ্যে একটা নেতিবাচক বার্তা যায়, আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সবার সচেতন থাকা উচিত।’
সভায় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আবদুল হক, সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মল্লিক মইন উদ্দিন আহমদ, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নূরুর রব চৌধুরী, সাবেক সিভিল সার্জন সৈয়দ মোনাওয়ার আলী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নূরুল মোমেন ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান বক্তব্য দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন পয়েন্টে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছিল উপজেলা প্রশাসন। ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এটি উন্মোচন করা হয়। তিন রাস্তার মোড়ে একজন কৃষক হাতে কাস্তে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কৃষাণ চত্বর’। চলতি পথে মানুষ সেখানে বিশ্রাম নিতেন, ভাস্কর্য দেখতেন। শুক্রবার রাতে একদল লোক ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলে।