ক্রীড়া প্রতিবেদক,
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৫।
সিলেটকে বলা হয়ে থাকে পূণ্যভূমি। শাহজালাল-শাহপরাণের স্মৃতিবিজড়িত সিলেট দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে উপহার দিয়েছে একের পর এক কৃতি সন্তান। পিছিয়ে নেই ক্রীড়াঙ্গনও। সিলেটের মাটি থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন, প্রতিনধিত্ব করেছেন একাধিক ক্রিকেটার।
বর্তমানে সিলেটে চলছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর বিপিএল। সেই কারণেই খুঁজে ফেরার চেষ্টা, সাবেক ক্রিকেটাররা কে কোথায় করছেন কী এখন। ক্রিকেটের সাথে যুক্ত আছেন নাকি খুঁজে নিয়েছেন নতুন পেশা, নতুন জীবন।
শফিকুল হক হীরা: সিলেট বিভাগ থেকে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম প্রতিনিধিত্ব করেন শফিকুল হক হিরা। স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের হয়েও ছিলেন তিনি। পরে ক্যারিয়ার শেষে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। করেছেন আম্পায়ারিং, যুক্ত ছিলেন হাই পারফর্মম্যান্স, বিপিএলেও। বর্তমানে দেশেই অবসর যাপন করছেন হীরা।
নেহাল হাসনাইন: ১৯৮৬ সালে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন নেহাল। ডানহাতি ব্যাট করার পাশাপাশি করতে পারতেন বলও। ক্রিকেট ছাড়ার পরে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের বাইরে। বর্তমানে কানাডায় স্থায়ীভাবে বাস করছেন তিনি।
গোলাম ফারুক সুরু: ১৯৮৬ সাল থেকে খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে। ১৯৯০ সালের পরে আর দেখা যায়নি যায়নি মিডিয়াম এই পেস বোলারকে। বর্তমানে দেশের ক্রিকেটের বয়সভিত্তিক দলে কোচ হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
নাসিরুল আলম নাহিদ: ১৯৯৯ সালে খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ছিলেন মূলত তিনি। বর্তমানে দেশ ছাপিয়ে ইংল্যান্ড প্রবাসী তিনি।
হাসিবুল হোসেন শান্ত: দেশের ক্রিকেটের পেস বোলারদের প্রথম অগ্রদূত ছিলেন তিনি। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময়ে তার ব্যাট থেকেই জয়সূচক রান এসেছিল। ক্রিকেট ছাড়ার পর যুক্ত ছিলেন কোচিংয়ে, তবে বর্তমানে দেশের যুবা দলে নির্বাচক হিসেবে কাজ করছেন শান্ত।
রাজিন সালেহ: ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষের জন্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতেন তিনি। ক্রিকেট ছাড়ার পর কাজ করছেন কোচিংয়ে দেশের ঘরোয়া লিগগুলোতে। ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দেখা গিয়েছে জাতীয় দলের সঙ্গেও।
এনামুল হক: দেশের গন্ডি পেরিয়ে এনামুল হক পাড়ি জমিয়েছেন ইংল্যান্ডে। তবে চলমান বিপিএলে কাজ করছেন চিটাগংয়ের হয়ে। দলের সহকারী কোচ হিসেবে যুক্ত তিনি।
তাপশ বৈশ্য: দেশের ক্রিকেটের এই পেস বোলার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ছিলেন আগ্রাসী। বর্তমানে দেশের বাইরে আমেরিকাতে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
অলক কাপালী: ভারতের বিপক্ষে ২০০৮ এশিয়া কাপে সেঞ্চুরি করে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। পরে জাতীয় দলের হয়ে খুব একটা খেলা না হলেও চালিয়ে গিয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেট। তবে চলতি বছর থেকে অলোকের ইচ্ছা কোচিংয়ে মনোনিবেশ করার। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিপিএল দিয়ে শুরু করবেন তিনি।
নাজমুল হোসেন: ক্রিকেট পেশা ছাড়ার পরই যুক্ত হয়েছেন কোচিংয়ে। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরগুলোতে নিয়মিত মুখ তিনি এখন। বর্তমানে যুক্ত আছেন বয়সভিত্তিক দলের বোলিং কোচের দায়িত্বে।
আবুল হাসান রাজু: দেশের ক্রিকেটের গন্ডি পেরিয়ে রাজু এখন আমেরিকাতে। নিজের পরিকল্পনা দেশটির মেজর লিগ খেলা নিয়ে। সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২০১৮ সালে।
এছাড়া সিলেটের হয়ে বর্তমানে জাতীয় দলে আছেন বা দল থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে যাচ্ছেন এমন ক্রিটকেটারের সংখ্যাও কম না। এর মধ্যে রয়েছেন আবু জাহেদ চৌধুরী রাহি, নাসুম আহমেদ, জাকির হাসান, এবাদত হোসেন চৌধুরী, সৈয়দ খালেদ আহমদ, তানজিম হাসান সাকিব, জাকের আলি অনিক।