Friday, April 4, 2025
Homeসিলেট বিভাগসুনামগঞ্জসুনামগঞ্জে তিন সেতু নিয়ে দুর্ভোগে কয়েক লাখ মানুষ

সুনামগঞ্জে তিন সেতু নিয়ে দুর্ভোগে কয়েক লাখ মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার,

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তিনটি সেতু নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন কয়েক লাখ মানুষ। উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীতে ওই তিনটি সেতু রয়েছে। জগন্নাথপুরের প্রাণকেন্দ্রে স্থাপিত সেতুগুলো দিয়ে চলাচলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনসাধারণ।

 

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে নলজুরের প্রধান সেতু খাদ্যগুদামের পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ চলছে। নদীর আরেকটি দেবে যাওয়া ডাক বাংলোর ঝুঁর্কিপূণ সেতুটি অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে হুমকির মুখে। যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এটি সরু হওয়াতে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে খাদ্যগুদামের পাশে বিকল্প বেইলি সেতু দিয়ে একমুখি যান চলাচল করছে। এই সেতুর সংযোগ সড়কের করুণ অবস্থা বিরাজ করছে।

 

এদিকে, নির্মাণাধীন নতুন সেতুর পাশে চলাচলের জন্য তৈরি করা বাঁশের সাঁকোটিও ভেঙে পড়ছে। এটি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলা কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

 

স্থানীয় নাগরিক জাকির হেসেন বলেন, তিন সেতুর ভাঙা-গড়ায় আমরা অতিষ্ঠ। প্রশাসনের চোখের সামনে দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা বিরাজ করলেও কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেই।

 

শামীম আহমদ নামের আরেক নাগরিক বললেন, উপজেলা সদরকে পৌরসভার রূপান্তরিত করার পর উপজেলা সদরে লোকজনের সমাগম বেড়েছে । শহরের একদম প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সেতুগুলোর করুণ দশায় কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগে ভুগছেন।

 

এলাকাবাসী ও এলজিইডি সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সালে নলজুর নদীর ওপর ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে খাদ্য গুদামের সামনে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। বিগত সরকারের আমলে পুরোনো এই সেতুটি ভেঙে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজটি পান কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাটি বাংলা এন্টারপ্রাইজ। গত বছরের এপ্রিল মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৬০ ভাগ কাজ এখনও শেষ হয় নি।

 

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ চলছে ধীরগতিতে। এই সেতুর পাশে ওই সময় বিকল্প হিসেবে হ্যালিপ্যাড এলাকায় একটি বেইলি সেতু তৈরি করা হয়। সেতুটি তৈরির সময় স্থানীয় লোকজন বর্ষায় এটি ডুবে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে আরও উঁচু করার দাবি জানান। বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলে না নেওয়ায় ভারী বর্ষণ ও ঢলের পানিতে সেতুটি বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায়। যে কারণে বর্ষায় তিন, চার মাস যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয় জনসাধারণকে। পানি কমে গেলে যান চলাচল শুরু হয়।

 

অপরদিকে ১৯৮৮ সালে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের টাকায় একই নদীর ওপর ডাক বাংলো সেতুর নির্মাণ শুরু হলেও ১৯৯৬ সালে এলজিইডি’র মাধ্যমে কাজ শেষ হয়। ২০২২ সালে ১৭ মার্চ নদী খননকালে সেতুর পিলারের কাছ থেকে খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার সময় সেতু দেবে যাওয়ায় ১১ মাস যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে এলজিইডি ও জগন্নাথপুর পৌরসভার উদ্যোগে সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশে স্টিলের পাটাতন বসিয়ে সেতুটি চালু করা হয়। বর্ষাকালে বিকল্প সেতু পানিতে তলিয়ে গেলে তখন একমাত্র ভরসা এ সেতু। এ সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এবং নদীতে পানি বাড়লে বন্ধ হয়ে যায় সেতু দিয়ে যান চলাচল। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

 

নির্মাণাধীন সেতুর কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাইট ম্যানেজার সাইফুল আলম জানান, নদীতে পানি থাকায় কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে কাজ দ্রুত গতিতে চলছে, অচিরেই শেষ হবে কাজ।

 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন জানান, নতুন সেতুর কাজ শেষ হলে জনদুর্ভোগ কমে যাবে। আমরা আশা করছি, ফেব্রুয়ারিতে সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments