নিজস্ব প্রতিবেদক,
ভারতে মৃত্যুর দুদিন পর এক বাংলাদেশি জহুর আলীর (৫০) মরদেহ হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় চুনারুঘাট বাল্লা সীমান্ত দিয়ে মরদেহটি হস্তান্তর করে। খোয়াই বাংলাদেশ-ভারত বাল্লা সীমান্তের দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে।
নিহত বাংলাদেশির মো. জহুর আলী চুনারুঘাট গাজিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ডুলনা গ্রামের মুনছব উল্যার পুত্র।
এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি নিখোঁজের দুদিন পর ভারত সীমান্তে জহুর আলীর মরদেহ উদ্ধার করেছে খোয়াই থানা-পুলিশ। সে পেশায় নিরাপত্তাপ্রহরী। তিনি ঢাকা বসুন্ধরা এসডিএল কোম্পানি লিমিটেডে কাজ করতেন।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি ৫ দিনের ছুটিতে নিজ বাড়ি পশ্চিম ডুলনা আসেন জহুর আলী। আসার পর গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়ি থেকে লুঙ্গি বিক্রয়ের জন্য বের হন। পরবর্তীতে অনেক সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন। এরপরও তার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে ৭ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানতে পারেন ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার গৌড় নগরের অজ্ঞাতনামা একটি মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবারের লোকজনকে ওই অজ্ঞাতনামা মরদেহের ছবি দেখে জহুর আলী বলে শনাক্ত করা হয়। পরে বিজিবি ও বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করে। তখনও জানা যায় মরদেহ ভারতের সীমান্তে পড়ে ছিল। ওই মরদেহটি ভারতের খোয়াই টাউন পুলিশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খোয়াই টাউন সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাল্লা সীমান্তের বিজিবি ও বিএসএফ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে খোয়াই থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শুভঙ্কর দেব বর্মা জহুর আলী নামের বাংলাদেশির মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।’
ভারতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘জহুর আলীর দেহে গুরুতর কোনো জখম নেই এবং সে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তারপরও পিএম রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
একই কথা জানালেন গাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে সঠিক নয়। তারা খুব আন্তরিকভাবে মরদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভানতের খোয়াই থানার অফিসার ইনচার্জ সুবির মালাকার, পুলিশের সাব ডিভিশনাল রঙ্গ দুলাল দেব বর্মা বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার কুন্দন কুমার, চুনারুঘাট থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত শফিকুর রহমান, বাল্লা বিজিবির ক্যাম্প কমান্ডার নাজমুল ইসলাম, গাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, সাংবাদিক আব্দুল জাহির ও নিহতের ছেলে অলি মিয়া।