আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ সরকারের পতন উদযাপন করছেন সিরিয়াবাসী। স্থানীয় সময় আজ রোববার রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রে জড়ো হতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে। এ সময় ‘মুক্তি’ স্লোগানে মুখরিত হয় দামেস্ক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হাজার হাজার মানুষ গাড়িতে কিংবা পায়ে হেঁটে দামেস্কের কেন্দ্রে জড়ো হচ্ছেন। এ সময় ‘মুক্তি’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
অনলাইনে পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিও যাচাই করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, দামেস্কের উমাইয়াদ স্কয়ারে এসেছেন অনেকে। বেশ কিছু মানুষকে একটি পরিত্যক্ত সামরিক ট্যাঙ্কের ওপর দাঁড়িয়ে গান গেয়ে উদযাপন করতে দেখা গেছে।
আজ রোববার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক দখল করে ‘মুক্ত’ ঘোষণা করেন বিদ্রোহীরা। এ সময় প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ সরকারের পতনের ঘোষণা করা হয়।
বিদ্রোহীরা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অত্যাচারী বাশার আল-আসাদ পালিয়ে গেছেন। আমরা দামেস্ককে অত্যাচারী বাশার আল-আসাদের হাত থেকে মুক্ত ঘোষণা করছি।’
এদিকে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ড। আর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দামেস্ক ছেড়েছেন। তবে তিনি কোথায় গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
এক যুগের বেশি সময় ধরে সিরিয়া শাসন করছেন বাশার আল-আসাদ। ক্ষমতা ধরে রাখতে তাঁর সরকার বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও দমনপীড়ন চালিয়েছে। ২০২১ সালের জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে সিরিয়ান সরকার কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন নৃশংসতা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক হামলা, জনবহুল এলাকায় বিমান হামলা, বেসামরিক মানুষদের ক্ষুধার্ত রাখতে অবরোধ এবং মানবিক সাহায্যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ।
জাতিসংঘের তথ্য মতে, যুদ্ধের কারণে ২০২২ সাল পর্যন্ত আনুমানিক ৩ লাখ ছয় হাজার ৮৮৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে সিরিয়ায়। আরও হাজার হাজার মানুষ অনাহার, রোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে মারা গেছে।