লাইফস্টাইল প্রতিবেদক :
বাঙালিরা এক থালা ভাতে একটু গাওয়া ঘি পেলে শুধু এর গন্ধেই পুরো থালা শেষ করে ফেলেন। যেকোনো খাবারের আগে ‘ঘিয়ে ভাজা’ শব্দ দু’টি ব্যবহার করলেই খাদ্যরসিক বঙ্গসন্তানেরা অন্ধের মতো এগিয়ে যান সেই স্বাদের টানে। অন্যদিকে, ত্বকের চিকিৎসকেরা বলছেন, নিয়মিত ঘি খেলে চেহারাতেও সুন্দরভাব ফুটবে। তবে একান্তই যদি ঘি খাওয়ার সমস্যা থাকে, তবে ত্বকের সৌন্দর্য ফেরাতে ঘি মাখাও যেতে পারে!
রূপচর্চায় ঘি’য়ের ব্যবহার :
মজার বিষয় হলো শুধু বাঙালি আমজনতাই নন, বলিউড তারকাদেরও ত্বকের যত্নে ঘি’য়ের ব্যবহার দেখা যায়। ঘি দিয়ে ত্বকের পরিচর্যার কথা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও বলা আছে। ঘি’য়ে আছে জরুরি ফ্যাটি অ্যাসিড। যা শুধু ত্বককে পুষ্টিই জোগায় না, ত্বকে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি মেরামতও করে। এর পাশাপাশি খুব ভাল ময়েশ্চারাইজারেরও কাজ করে ঘি। ত্বক পরিচর্যার প্রাকৃতিক যত্নেও ঘি দারুন কাজ করে। সামান্য এক চামচ ঘি গরম করে রুক্ষ্ম ত্বক বা ফাটা ঠোঁটে লাগালে মসৃণ ত্বক পাওয়া যাবে।
আয়ুর্বেদে শাস্ত্রে ঘি নিয়ে যে তত্ত্ব :
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে – গরুর দুধ থেকে তৈরি শুদ্ধ দেশী ঘি হলো ‘অমৃত সমান’। ২০০৯ সালের একটি গবেষণাও বলছে, গরুর দুধ থেকে তৈরি ঘি আমাদের সমস্ত রকম শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার জন্যই উপকারী। দেশি ঘি’য়ে আছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। এটা আমাদের হজমের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রশ্ন ওঠতে পারে কেউ যদি ল্যাক্টোস ইনটলারেন্ট হন অর্থাৎ দুগ্ধজাত খাবার হজমের সমস্যা থাকে, তাহলে কী করবেন ? তারা ঘি’য়ের উপকার পেতে এটা ত্বকের যত্নে গায়ে মাখতে পারেন। ঘি’য়ের গুণ হলো – এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়ায়। আর শুষ্ক ত্বকে পুষ্টি জুগিয়ে ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তোলে।
ঘিয়ে কী কী গুণ আছে ?
গবেষণা বলছে ঘিয়ে রয়েছে ভিটামিন এ, বি১২, ভিটামিন ডি, ই, কে এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো ত্বকের আর্দ্রভাব দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে সাাহায্য করে। এছাড়া ঘি ত্বকের রং উজ্জ্বল করে, দাগ ছোপ দূরে রাখতে সাহায্য করে। তেমনি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করার পাশাপাশি ত্বককে মসৃণ রাখতেও সাহায্য করে। ঘিয়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের টিস্যুর স্তরে প্রবেশ করে কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। তাতে ত্বকের টান টান ভাব বজায় থাকে।
ঘি’য়ের নানাবিধ ব্যবহার :
ঘি ত্বকের উপরে ব্যবহার করা যেতে পারে নানা ভাবে। মধুর সঙ্গে ঘি মিশিয়ে মুখে ফেসপ্যাক হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ফেসপ্যাক মুখের ত্বকের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।
ত্বকে র্যাশ বা কালসিটের উপরে ঘি লাগালে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। এর ফলে ত্বক দ্রুত সুস্থতা পায়।
ঘি’কে রাতে শোওয়ার আগে ময়েশ্চারাইজ়ার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঘি’য়ের সঙ্গে চিনি, লেবুর রস, হলুদ এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে মুখে মাখলে ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে।