রনি আহমেদ, দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার বিচার দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মানজুর আল মতিন।
আজ শনিবার সকালে দোয়ারাবাজার উপজেলার মংলারগাঁও গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে তিনি এ দাবি জানান। নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি দলের হয়ে সেখানে যান তিনি।
মানজুর আল মতিন বলেন, ‘এখানে কিছু হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা হয়েছে, হামলার চিহ্ন এখনো রয়েছে। এ ঘটনার যারা ঘটিয়েছে তাদের বিচার করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছে। বাংলাদেশ এখন ঐক্যের বাংলাদেশ, হিন্দু মুসলিম সবার বাংলাদেশ। সে কারণে ভাই- ভাইয়ের পাশে দাঁড়াবে, ভাই ভাইকে চিনবে, এটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি, এটা মনে রাখতে হবে।’
মানজুর আল মতিন বলেন, দোয়ারাবাজারে যে কোরআন অবমাননা করেছে তাঁকে পুলিশ ধরেছে। এখন এই সূত্র ধরে যারা একজনের দোষের কারণে অন্য হিন্দু বাড়িতে হামলা করেছে, এ হামলাকারীদের বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই এই ধরনের ঘটনা আর কখনোই না ঘটে। এখানে সংখ্যা হয়তো ভারতীয় গণমাধ্যম বাড়িয়ে বলছে, ক্ষতির পরিমাণও বাড়িয়ে বলছে। সরেজমিনে আসলে হামলার বিষয়টি পরিষ্কার হবে। মানুষের বাড়িতে হামলা, মানুষকে অনিরাপদ করা, তাদের শিশুসহ পালিয়ে যাওয়া এটা আমার বাংলাদেশে হতে পারে না।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মানজুর মতিন আরও বলেন, এরা আগেও দীর্ঘদিন সম্প্রতির সাথে বসবাস করছিলেন। কারা এই ঘটনার পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা জরুরি। এটার পেছনে আরও শক্তি রয়েছে। কারা এই মানুষ গুলোকে উত্তেজিত করছে, একজায়গায় জড়ো করছে, কারা জড়ো করে নিয়ে আসছে, এরা কারা। কারা বাংলাদেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, কারা বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
এ সময় জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য প্রিতম দাশ, চিকিৎসক কর্মী তাজনুবা জাবিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে গত মঙ্গলবার রাতে দোয়ারাবাজার উপজেলার মোংলারগাঁও গ্রামে একটি ফেসবুক পোস্টে কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বেশ কিছু ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এক পর্যায়ে অভিযুক্তকে পুলিশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করে।