সিলেট প্রতিনিধি,
প্রতিবছরের মতো এবারও সিলেটে ২৭ জন এইডস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন,
সিলেটে প্রতি বছরই এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সিলেটে ২৭ জন এইডস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে, এইডস শনাক্তে যত বেশি পরীক্ষা করা হচ্ছে তত বেশি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর যত কম পরীক্ষা হচ্ছে ততই শনাক্তের হার কমছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক রোগীকে এইডসের পরীক্ষা দিলেও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে পরীক্ষা করাচ্ছেন না। এতে করে আক্রান্ত থাকা স্বত্ত্বেও শনাক্ত করা যাচ্ছে না পাশাপাশি তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবাও দেওয়া যাচ্ছে না। এতে করে অন্যান্যরা এই রোগে আক্রান্তে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সিলেট বিভাগে নতুন করে এইডস আক্রান্ত ২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগ রোগীই সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার। এর আগেও এই উপজেলা থেকেই বেশি এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছর ২ হাজার ১০৫ জন রোগীকে পরীক্ষা করে ২৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হন। এর আগের বছর ৫ হাজার ৭৮৯ জনকে পরীক্ষা করে ৪৮ জন রোগী শনাক্ত হন। এর আগে ৮ হাজার রোগী পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়।
হাসপাতালের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যতো বেশি পরীক্ষা করা হচ্ছে ততো বেশি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর পরীক্ষার হার কমলেই তা ক্রমান্বয়ে নিচে নামছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত রোগী কম অথবা বেশির হার বোঝা যায়, যদি প্রতিবছর একটা নির্দিষ্ট হারে পরীক্ষা হয়। অনেক জটিলতার কারণে ও রোগীদের অসচেতনার কারণে পরীক্ষা করার কথা জানালেও অনেকে পরীক্ষা করেন না। এতে করে সঠিক হার বের করা সম্ভব হচ্ছে না। সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে এইডস আক্রান্ত রোগী বাড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পাশাপাশি সুচিকিৎসায় এইডস রোগের নির্মূল করা সম্ভব হবে।
সিলেট বিভাগে ২০০৩ সাল থেকে এইচআইভি পরীক্ষা ও আক্রান্ত রোগীদের পরিসংখ্যানের কাজ শুরু করে আশার আলো সোসাইটি। তবে ২০২৩ সালের শেষের দিকে তারা সম্পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে দেয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের এআরটি সেন্টারকে। বর্তমানে হাসপাতালটির এই বিভাগ এইচআইভি পরীক্ষা ও আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে কাজ করছে। ২০১৭ সালের মে মাস থেকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে এইচআইভি পরীক্ষার জন্য এআরটি সেন্টার চালু হয়েছে।
এআরটি ফোকাল সেন্টারের ড. আবুল নাইম বলেন, প্রতিবছরই সিলেট বিভাগে এইডস আক্রান্ত রোগীর শনাক্ত হচ্ছেন। তবে, প্রতিবছর বাড়ছে না কমছে সেই হিসাব বলা মুশকিল। কারণ যে বছর পরীক্ষা বেশি হচ্ছে ওই বছর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আবার যে বছর কম পরীক্ষা করা হচ্ছে ওই বছর রোগীর সংখ্যা কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই সঠিক পরিসংখ্যান পেতে হলের রোগীদের পরীক্ষা করানোর বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টার থেকে এখন পুরোপুরিভাগে এইডস আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।
তিনি জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১ হাজার ১৪৮ জন এইডস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেটে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসী কর্মীদের সংখ্যাই বেশি। তাদের মাধ্যমেই স্ত্রী ও সন্তানরা এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে চিহ্নিত করা যায়নি এমন আরও অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি সিলেট বিভাগে আছেন।
সিলেট স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান বলেন, এই রোগ নির্মূল করতে শুধু সচেতনতা নয়, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকাও জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামাজিকভাবে হেনস্তা কিংবা অপবাদ থেকে বিরত থাকতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।